আমরা নতুন এক হিরোইনের তৈরি করেছি

0
98

আমরা নতুন এক হিরোইনের তৈরি করেছি, ঘরে বসে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে ব্যবহারযোগ্য এবং চোখের মাধ্যমে সরাসরি চলে যায় ব্রেইনে। কোকেইন ও পর্নের মধ্যে বিশেষ কোনো মিল নেই। তবে এক গবেষণার মাধ্যমে দেখা গেছে যে পর্ন দেখার ফলে আমাদের মস্তিস্কে এক ধরনের আনন্দদানকারী কেমিক্যাল উৎপন্ন হয়। একই কেমিক্যাল ড্রাগ ব্যবহারকারীদের মস্তিস্কেও উৎপন্ন হয়ে থাকে।

 

আগেই বলেছিলাম, কোকেইন এবং পর্ন এর মধ্যে তেমন কোনো মিল নাই। তবে কোকেইন/ হিরোইনের পাওয়া যায় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে এবং পর্ন ডাউনলোড করা হয় ইন্টারনেটে ফ্রিতে। একটির অভ্যাস খুব দ্রুত প্রবল হয়ে থাকে, যেখানে অন্যটি নির্ভর করে হাই স্পিড ইন্টারনেটের উপর। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোকেইন ও পর্নের মধ্যে মিলটা কোথায় ?

মিলটা হচ্ছে মস্তিস্কের ভেতর। যদি আপনি একজন নিউরোসার্জন না হয়ে থাকেন তারপরও এই আলোচনার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, আমাদের মস্তিস্কে কীভাবে কাজ করে। নিউরাল সায়েন্স সম্পর্কিত এ বিষয়গুলো আপনি যত ভালোভাবে বুঝবেন পর্নের প্রতি আপনার তত বেশী অনীহা তৈরি হবে। আমাদের মস্তিস্কের গভীরে রিওয়ার্ড প্যাথওয়ে বা পুরষ্কার তৈরীর পথ বলে একটি ব্যাপার থাকে। এই রিওয়ার্ড প্যাথওয়ের কাজটা  ঠিক তার নামের মতোই, এটা আপনাকে ঠিক সেভাবে পুরস্কৃত করে যেভাবে সে আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জটিল লাগছে ব্যাপারটা তাইনা ? আপনার সুবিধার জন্য আরেকটু সহজ করে বলছি, আমাদের মস্তিস্কে এই সার্কিটটি আপনাকে পুরস্কৃত করে অর্থাৎ আনন্দ দেয় যখন আপনি জীবনকে অগ্রসর করার মতো কিছু করেন। মজার কোনো খাবার খাওয়া অথবা পছন্দের কোনো কাজ করার সময় আমাদের মস্তিস্কে এমনটা ঘটে থাকে। তখন আমাদের মস্তিস্কে কিছু কেমিক্যাল নির্গত হয়। এদের মধ্যে সাধারণত যে কেমিক্যালটি নির্গত হয় তার নাম হচ্ছে ডোপামিন, আবার কিছু অক্সিটোসিনের মতো অন্য কেমিক্যালও নির্গত হয়। সাধারণত, এই কেমিক্যালগুলো পাইকারি হারে উৎপন্ন হয়। পরিতৃপ্তি পাওয়া যায় এমন যেকোনো কিছুতেই তারা উৎপন্ন হয়ে থাকে। আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা’আলা ঠিক এভাবেই এগুলো সৃষ্টি করেছেন। এদের কাজ আমাদের পরিতৃপ্তি অনুভব করানো, অন্য মানুষদের সাথে সম্পর্ক তৈরীতে সাহায্য করা এবং আনন্দদায়ক কোনো কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়া ইত্যাদি।

তবে সমস্যা হল, এই রিওয়ার্ড প্যাথওয়ে হাইজ্যাকড্ হতে পারে। কোকেইন এবং আফিম জাতীয় ড্রাগে অনেক বেশী পরিমানে ডোপামিন নির্গত করতে চায়। ফলে তারা ব্রেইনের রিওয়ার্ড প্যাথওয়েতে আঘাত হানে। নেশাখোরদের মাতাল করে রাখে। এমন পিনিক পেতে তাদের খুব বেশি কষ্ট করা লাগে না। কয়েকটি টানই যথেষ্ট। এখন অন্য কোন একটি  জিনিসটি এমন করে থাকে চিন্তা করুন তো ?

পর্নঃ আপনার ব্রেইনে বয়ে যাওয়া ডোপামিনের বন্যা শুধু ক্ষনিকের সন্তুষ্টিই দেয় না, ব্রেইনে স্পন্দনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুরস্কার পাওয়ার নতুন পথ অর্থাৎ রিওয়ার্ড প্যাথওয়ে তৈরী করে, যা একজন ব্যবহারকারীদের আগের সেই কাজে ফিরিয়ে নিয়ে যায় যে কাজের মাধ্যমে কেমিক্যালটা নির্গত হয়েছিল । একজন ড্রাগ বা পর্ন ব্যবহারকারী যত বেশী ড্রাগ নেয় বা পর্ন দেখে, তাদের ব্রেইনে এই প্যাথওয়েগুলো তত বেশি তৈরি হয়। ড্রাগ অথবা পর্ন ব্যবহার সহজ থেকে সহজতর করতে থাকে। যার ফলে একজন মানুষ বার বার ড্রাগ নিতে চায় কিংবা পর্ন দেখতে ফিরে আসে, যদিও তখন তারা মন থেকে চায় না। একজন আসক্ত ব্যক্তির ব্রেইনে এই কেমিক্যালগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় নির্গত হতে থাকে। ফলে ব্রেইনে অন্যান্য পরিবর্তনও ঘটে থাকে। একজন নেশাখোর আগের চেয়ে বেশি মজা পাওয়ার আশায় কিংবা ক্ষনিকের ভালো অনুভূতি পেতে অনেক বেশি ড্রাগ নিতে থাকে। পর্ন ব্যবহারকারীদের ব্রেইন অতিমাত্রায় ডোপামিনে ডুবে থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাই তারা আসক্ত হয় তাড়াতাড়ি। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, একজন পর্ন ব্যবহারকারী তার ব্রেইনের পরিবর্তনগুলো সহজে টের পায় না। কারণ, অতিরিক্ত ডোপামিনের বোঝা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য ব্রেইন কিছু ডোপামিন রিসেপ্টর কমিয়ে ফেলে। কম রিসেপ্টর থাকায় ডোপামিনের পরিমান কমে গেছে বলে মনে হয়। তাই একই মাত্রার পর্ন ব্যবহারকারীকে আগের মতো উত্তেজনা দেয়না। যার ফলে- অনেক পর্ন ব্যবহারকারী আরো বেশি বেশি পর্ন খুঁজতে থাকে, অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দেয় কিংবা আরো আকর্ষণীয় পর্নের দিকে ঝুঁকে যায়। উদ্দেশ্য একটাই। অতিরিক্ত ডোপামিন উৎপাদনের মাধ্যমে পূর্বের উত্তেজনা ফিরে পাওয়া। যখন একজন পর্ন ব্যবহারকারী তার ব্রেইনে স্পন্দনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া কেমিক্যালগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যায়, যখন বুঝতে পারে যে সে আসক্ত, তখন তার মধ্যে এই অভ্যাস প্রত্যাহার করতে চাওয়ার প্রবনতা তৈরী হয়, যেমনটা একজন ড্রাগ ইউজারের ক্ষেত্রে হয়ে।

 

অনেকে মনে করে পর্ন সর্ব কালেই ছিল। তবে এখনকার পর্নের ভার্সন পুরোই আলাদা। ধন্যবাদ, ইন্টারনেট। ধন্যবাদ, সকল ওয়েব ব্রাউজারকে। তোমাদেরই গর্ভে পর্ন বিস্তার লাভ করছে। ডোপামিনের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজকে। পর্নের বিকৃত সব ক্যাটেগরি আর একের পর এক কৃত্রিম সৌন্দর্যের অধিকারী পর্ন অভিনেতা আর অভিনেত্রীদের কাছে হার মেনে যাচ্ছে মানবতা। ভালোবাসা তো এখন জাদুঘরে থাকবে । মানবজাতির সম্মানের কথা বললাম না ।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here