যেদিন থেকে স্কুলের শিক্ষকদের হাতের

0
33

যেদিন থেকে স্কুলের শিক্ষকদের হাতের বেত কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেদিন থেকেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধ্বংসের পথে চলছে। নেই সন্মান মর্যাদা। সর্বদা অপমানের ভয়। 

২০০৪ সালে আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে, একদিন আমাদের শ্রেণীর এক মেয়ে ভুলবশত আমার হাতটা আলতো করে ধরে, বিশ্বাস করুন শরীরে এমন কাঁপুনি উঠেছিল রীতিমতো জ্বর উঠেছিল। এখন ২০১৮ সালে গত পরশুদিন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছেলে ফেসবুকে রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস দিয়েছে, সে লিখেছে বালিকা তোমার দায়িত্ব নিতে চাই তোমার ভবিষ্যৎ সন্তানের বাপ হতে চাই। এখন নিজেকে মঙ্গল গ্রহের এলিয়েন মনে হচ্ছে।

 

খুব সম্ভব আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ালেখা করি।  একবার মাঠে খেলতে গিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছিল বাসায় মাগরিবের ১৫মিনিট পর ঢুকেছিলাম বলে আম্মু ঝাড়ুর উল্টো দিক দিয়ে এমন মাইর দিয়েছিল বাব্বা পাছায় এখনো দাগ আছে।

বেস কিছুদিন আগের অনলাইন পত্রিকায় দেখলাম, রাত ১০টায় ঢাকার কোন এক হোটেল থেকে ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়া ইংলিশ মিডিয়ামের এক ছেলে ও এক মেয়েকে হাতেনাতে ধরেছে পুলিশ।

আমরা বন্ধুরা মিলে কথা বলতাম আড্ডা দিতাম। যদি কোন বড় ভাই আসতে দেখি তাহলে সাথেসাথে লুকিয়ে যেতাম, এমনো হয়ছে রাস্তায় কথা বলতে দেখে বড় ভাইয়েরা রাস্তার মাজখানেই কান ধরে উঠবস করিয়েছে। এমন ঘটনা অনেক হয়েছে।

ওইদিন রাত দশটায় বন্ধুর সাথে ঢাকার উত্তরা এলাকায় রাস্তায় হাঁটার সময় বড় বড় ফ্রেমের চশমা পরা এক পিচ্চি ছেলে কাচুমাচু করে বলে উঠল, ভাইয়া আগুন হবে, আগুন সিগারেটটা ধরাব। আমি নিজই লজ্জিত।

আমাদের মা বাবারা তখনও আমাদেরকে মারতো, বড় হওয়ার পর এখনো আমাদেরকে মারে, শাষন করে। বাসার কিংবা স্কুলের স্যারদের বলত, আমার বাবাতো সার কে বলে দিয়েছিল মাংস আপনার হাড্ডি আমার।

আর এখন টিউশনি পড়াতে গেলে আগেই বলে দিবে, দেখ বাবা ছেলের/ মেয়ের গায়ে কিন্তু একদম হাত উঠাতে পারবা না। নইলে আরও কতকি ?

সেই সময় যখন আমরা ক্রিকেট/ ফুটবল খেলতাম আশেপাশের বাসা বাড়িতে, দোকান পাটে বল পরতো। তখন আঙ্কেল আন্টিরা রাগ করে মাঝেমধ্যে বল রেখে দিত। কানে ধরতাম, উঠবস করতাম, কান্নাকাটিও করতাম বলটার জন্য, পরে অবশ্য তারা বল ফেরত দিয়ে দিতেন।

কিছুদিন আগে ফেসবুক এ দেখলাম কিছু ছেলে ব্যাট দিয়ে মেরে এক দোকানদারের চাচার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, কারন ওই ছেলেগুলো রাস্তার মাঝখানে খেলতে গিয়ে চাচার দোকানের জিনিসপত্র ভেঙ্গে ফেলে তাই চাচা রাগ করে বল রেখে দিয়েছিল। এটাই চাচার অপরাধ। আর এর জন্য  চাচার শাস্তি।

আমরা বড় ভাইদেরকে ভয় পেতাম তবে এবং খুব সম্মান করতাম, এলাকার চায়ের দোকানে বসতাম না। আর এখন আমরা চায়ের দোকানে বসি  যখন কোন ছোট ভাইয়েরা আসে উল্টো আমরাই  উঠে বাইরে চলে যাই। তাদেরকে নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকি কখন আবার বেয়াদবী করে বসে। সেই সময় আমরা দুষ্টামি করতাম, মানুষের না হয় একটু আধটু বিরক্ত করেছি , কিন্তু তাদের প্রতি মন থেকে একটা সম্মান ছিল সর্বপরি। আর এখনকার ছেলেমেয়েদের বাইরে গিয়ে দুষ্টামি করা লাগেনা, মোবাইলেই সব করে ফেলে।

 

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here