রমজানের ইফতার পার্টিতে দাওয়াত

0
31

গত সপ্তাহে বন্ধুর  বাসায় ইফতার পার্টিতে দাওয়াত । যদিওবা এমন দাওয়াত আমি পছন্দ করি না  তারপর ও গেলাম শুধু ইফতার পার্টি বলে। ওখানে মান্যগন্য লোকের সমাগম অবশ্য এটাই স্বাভাবিক কেননা বন্ধুর পরিবার আলাকার নামীদামী এবং বড়লোক। খাবারের তো বন্যা বয়ে গেলো, অতিথি আপ্যায়নেরও কোনো কমতি নেই বললেই চলে । 

 

সবাই  একসাথে বসে ইফতার করছিলাম হঠাৎ  দেখি ২ জন ভিক্ষুক এর আগমন । পরনে নোংরা জামা, শুকনো মুখ, দেখেই বোঝা যাচ্ছে তাদের পেটে কিছু পরেনি। তারাও রোযা আছে। সবার সামনেই অনায়াসে ভিক্ষুক দুজন বললো আমাদের একটু খাবার দেন, সারাদিন রোযা রাখার পর মাগরিবের আযানের সময় শুধুমাত্র টিওবয়েল থেকে পানি খাইছি আর কোনো খাবার পেটে জুটেনি, একটু খাবার দেন । আল্লাহ আপনার ভালো করবে। বন্ধুর মা আন্টি সরাসরি বলে দিলেন কোনো খাবার নাই যাও এখান থেকে, বাসায় এতো মেহমান এসছে আর এই ফকিন্নি গুলো এখনেই আসছে যা যা।ভিক্ষুক একজন বললো খালা একটু বাসি খাবার দিলেই চলবো। না হয় এঁটো খাবার ই দেন, খুব ক্ষিদা পাইছে।বন্ধুর মা আন্টি : এই ফকিন্নি গুলার জন্য শান্তিতে ইফতার করা যাবেনা। এই ফকিন্নি যা তো না হয় গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব । ভিক্ষুক নিরুপায় হয়ে  ২ জন চলে গেলো চোখের পানি মুছতে মুছতে।আমন্ত্রিত মেহমানেরা অনেকেই ব্যাপারটা লক্ষ করলো কিন্তু কেউ কিছু বললো না। আমিও কিছুই বললাম না।সবাইকে খুব আপ্যায়ন করলো। ইফতার শেষে অনেক খাবার বাচলো এবং অনেক খাবার এঁটো হলো। অবশিষ্ট সবগুলো খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দিলেন। 

  • আচ্ছা এই খাবারগুলো থেকে এক প্লেট খাবার ঐ ভিক্ষুক দুজনকে দিলে কি খুব ক্ষতি হইত ?
  • তারা ভিখারি বলে কি তাদের ক্ষুদা থাকতে নেই ?
  • তাদের খাওয়ার অধিকার নেই ?
  • ভিখারিরা কি মানুষ না ?

ভিখারি গুলোকে  একটু খাবার দিলে তারা খুশিমনে খেতো, তাদের আত্বা শান্তি পেতো এবং আল্লাহ খুশি হবেন ।পবিত্র রমযান মাস তো পাপ মোচনের মাস, রমযান মাস তো নিজেদেরকে শোধরানোর মাস, রমযান মাস তো পূন্য অর্জনের মাস, সারাবছরের পাপ ধোয়ার জন্য আল্লাহতায়ালা আমাদের এই রমযান মাসটি দিয়েছেন। এই এক মাসের ভালো কাজ আমাদের বাকি এগারো মাসের খারাপ কাজ শোধরানোর মাস। রোযার মাসে তো অন্তত আমাদের  একটু ভালো হওয়া উচিৎ, ভালো ভালো কাজ করা উচিৎ। আর কত পাপ করবো। পবিত্র রমযান মাসে একটা ভালো কাজ করলে ৭০গুন বেশি সওয়াব পাওয়া যায় জেনেও কেনো আমরা পাপের বোঝা বাড়াচ্ছি ?যাদেরকে এতো আপ্যায়ন করে খাওয়ালেন তারা সবাই বড়লোক। বড়লোক মানুসেরা সবসময় ভালো ভালো খাবার খায়। একদিন বড়লোকদের দাওয়াত দিয়ে না খাইয়ে গরিব ভিক্ষুকদের খাওয়ালেই কি অনেক বেশী ক্ষতি হইত ? 

যাদের পেটে দু মুঠো ভাত জোটেনা তাদেরকে খাওয়ান, আল্লাহ খুশি হবে, যাদের পরনে ছেড়া কাপর তাদেরকে  নতুন কাপর উপহার দেন তাহলে  আল্লাহ খুশি হবেন, জান্নাতের দরজা খোলা পাবেন। লোক দেখানো রোযা, ইফতার পার্টি এসব না করে মন থেকে নিয়ত করে রোযা রাখুন এবং অনাহারের মুখে খাবার তুলে দিয়ে হাঁসি ফুটানোর চেস্টা করে দেখুন নিজের কাছেই ভালো লাগবে । আল্লাহ সব জানেন, সব দেখেন। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে আপনার ভালো কাজের উত্তম উপহার দিবেন। 

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here