অনলাইন হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায়

0
67

ইন্টারনেট জগতে পাসওয়ার্ড হ্যাকিং একটি আতংকের নাম। কখন ,কিভাবে হ্যাক হয়ে যাবে আপনার পাসওয়ার্ড টেরই পাবেন না। এই পাসওয়ার্ড হ্যাক করে হ্যাকাররা আপনার মূল্যবান গোপন তথ্য চুরি, অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চুরি কিংবা আপনার গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন অ্যাকাউন্ট যেমনঃ ফেসবুক,ইমেইল, অনলাইন ব্যাংকিং,অনলাইন সেবা নষ্ট করে দিতে পারে চোখের পলকেই।

আজকাল সবার অনলাইন অ্যাকাউন্টই তাই কমবেশি হ্যাকিংয়ের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।  আর হ্যাকারদের হাত থেকে বাঁচার উপায় ভালো বলতে পারেন শুধু হ্যাকারাই। সম্প্রতি হ্যাকিংয়ের হাত থেকে বাঁচার জন্য হ্যাকারদেরই দেওয়া ৬টি মূল্যবান পরামর্শ প্রকাশ করেছে সিএনএন।

৬টি মূল্যবান পরামর্শ নিচে আলোচনা করা হল

১. একই পাসওয়ার্ড সব সাইটের অ্যাকাউন্টে ব্যবহারঃ আমরা সাধারণত অনলাইন অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার সব জায়গায় ব্যবহার করে থাকি। অর্থাৎ ফেসবুক, জিমেইল, কিংবা যেকোন ওয়েবসাইটের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি মোটেও ঠিক না, কেননা যদি কখনো হ্যাকিং এর শিকার পড়েন  তবে হ্যাকার আপনার একটি মাত্র পাসওয়ার্ড জেনেই খুব সহজেই  সকল অনলাইন অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে পারবে। তাই আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।

২. অন্যের কম্পিউটার কিংবা মোবাইলে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করাঃ  অন্যের ডিভাইসে নিজের অ্যাকাউন্টে লগিইন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রথমে, সাইবার ক্যাফের কম্পিউটারের কথা বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।  কারণ আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে সেই ডিভাইসে থাকতে পারে কি-লগার। কি-লগার হচ্ছে বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার , যা ডিভাইসে লগইন করা পাসওয়ার্ড সেভ হয়ে থাকে। তাই কি-লগার হতে সাবধান থাকতে হবে।

৩. পাসওয়ার্ড হতে হবে স্মার্টঃ  অনলাইনে ব্যবহার করা পাসওয়ার্ড  অনেক শক্তিশালী বা স্মার্ট হতে হবে । এক জরিপ রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সহজ ধরণের পাসওয়ার্ড সাধারণত অনেক সহজেই হ্যাক হতে পারে । কিন্তু প্রশ্ন হলো, কিভাবে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করা যায়? বিভিন্ন ক্যারেক্টার, স্পেশাল চিহ্ন, সংখ্যা মিলিয়ে বানাতে পারেন আপনার শক্তিশালী পাসওয়ার্ড। ছোট-বড় অক্ষরের মিশ্রণ রেখে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বানানো বুদ্ধিমানের কাজ। বেশীরভাগ লোকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই তাদের নাম, মোবাইল নম্বর কিংবা জন্ম তারিখকে পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এরকম পাসওয়ার্ড ব্যবহার থেকে সাবধান থাকতে হবে।

৪. টু স্টেপ নিরাপত্তা ব্যবহারঃ  অনলাইনে পাসওয়ার্ড ব্যবহারে  টু-স্টেপ অথেনটিকেশন  নিরাপত্তা ব্যবহার করতে হবে। টু স্টেপ বা দুই স্তরের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারকারী তার নিজ অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের লগ ইন করার সময় মোবাইল ফোন  এ আরও একটি কোড ব্যবহার করতে হয়। এতে অতিরিক্ত একটি স্তরের নিরাপত্তা পাওয়া যায়। তাই যতক্ষণ হাতে মোবাইল ফোন থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত আর কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছে না সেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

৫. একই পাসওয়ার্ড বেশিদিন ব্যবহার না করাঃ  গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলো পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করার চেস্টা করতে হবে। প্রতি মাসে অন্তত একবার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করলে ভালো হয়। এছাড়াও অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং জনিত কোন সন্দেহ দেখা দিলেই দেরি না করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে ফেলতে হবে। এতে সুরক্ষিত থাকবে আপনার অনলাইন অ্যাকাউন্ট।

৬. ফোনের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ সবসময় চালু না রাখাঃ  সব সময় ফোনের ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখা যাবে না। ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ চালু রাখলে অপরিচিত ব্যক্তিরাও ফোনের মধ্যে কী আছে, তা দেখার জন্য চেষ্টা করে। হ্যাকাররা নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করে আপনার ফোনকে আগের কোনো ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য প্রলোভন দেখাবে। একবার এই নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়লে হ্যাকাররা ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়ে দিবে এবং আপনার অজান্তেই ফোন থেকে তথ্য চুরি, নজরদারির মতো কাজগুলো চালিয়ে যাবে। তাই যখন প্রয়োজন থাকে না, তখনই ওয়াই-ফাই ও  ব্লুটুথ বন্ধ রাখতে হবে।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here