ইয়াবা জালে আজকের যুব সমাজ

0
128

ইয়াবা এক প্রকার নেশা জাতীয় ট্যাবলেট। ইয়াবা মূলত মেথঅ্যাম্ফিটামিন ও ক্যাফেইন এর মিশ্রন তৈরি করা হয়। আবার কখনো ইয়াবা সাথে হেরোইন মেশানো হয়। বিভিন্ন দেশে একসময় যা সর্দি ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ওষুধ হিসেবে ব্যাবহার করতো এই ইয়াবা ট্যাবলেট। সর্বপ্রথম ইয়াবা থাইল্যান্ডে বেশ জনপ্রিয় ছিল, পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে এটি চোরাচালান করা হয়েচ্ছে বাংলাদেশে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ পৃথিবীর অনেক দেশেই এই ইয়াবা মাদকের বিস্তার ঘটেছে খুব দ্রুত গতিতে।

আর বাকি সব মাদক যেমন গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, পেথেডিনের মতই বাংলাদেশেও এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে ইয়াবা মাদকটি। ক্রেজি মেডিসিন বা পাগলা ওষুধ হচ্ছে ইয়াবা। বর্তমানে বাংলাদেশের  বিভিন্ন এলাকার মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কাছে এ মাদকটি পরিচিত (বাবা) নামে। খুব সম্ভব ২০০০ সালে মিয়ানমার থেকে চোরাচালান হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ইয়াবা। প্রচণ্ড উত্তেজক ও নেশাকারক এই ট্যাবলেট এর উৎপাদনকারী সব উপকরণ চোরাইপথে নিয়ে এসে এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে ইয়াবা। ফলে খুব সহজে যুবক-যুবতীদের মধ্যে খুব দ্রুত গতিতে ছরিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা। ইয়াবা সেবনকারীরা অতিরিক্ত আনন্দ আর উত্তেজনা আসক্ত হয়ে সাময়িকভাবে ভুলিয়ে যায় জীবনের সব যন্ত্রণা। প্রচণ্ড উত্তেজক ক্ষমতা আছে এই ইয়াবাতে যৌন-উত্তেজক হিসেবে ব্যবহার করছেন অনেকে। ক্ষুধা কমিয়ে দেয় ইয়াবা এবং স্লিম হওয়ার ওষুধ হিসেবে অনেকে  ইয়াবা সেবন শুরু করেন। এই সাময়িক আনন্দের ট্যাবলেট টি তাদের ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, প্রথমে কম সেবনে এই ট্যাবলেট কাজ করলেও ধীরে ধীরে সেবনের পরিমান বাড়াতে হয়।

একজন ইয়াবা ক্যাফেইন বেক্তি প্রায় নির্ঘুম রাত কাটায়, ইয়াবার প্রতিক্রিয়ায় টানা তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত জেগে থাকতে পারে অনেকে। অতঃপর শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে, মেজাজ হয় খিটখিটে হয়ে যায়, ধীরে ধীরে গলা-মুখ শুকিয়ে যায়। প্রচণ্ড ঘাম আর গরমের অসহ্য অনুভূতি বাড়। বেড়ে যায় নাড়ির গতি, উচ্চ রক্তচাপ, দেহের তাপমাত্রা আর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। দীর্ঘ দিনের ইয়াবা সেবনকারী ব্যক্তিরা উচ্চ রক্তচাপের রোগীই হয়ে যায়। মস্তিষ্কের ভেতর ছোট ছোট রক্তনালি গুলো ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে, এক সময় এগুলো ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়, মানসিক নানা রোগ দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অহেতুক রাগারাগি, ভাঙচুরের প্রবণতা বাড়ে। লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্র এবং পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা এবং পিছিয়ে পড়তে পড়তে এক সময় আসক্ত ব্যক্তিরা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়ে আত্মহত্যা করে থাকে।

যারা ফিরে পেতে চায় স্বাভাবিক সুস্থ সুন্দর জীবন, নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। এমন নয় যে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা কখনো স্বাভাবিক জীবনে আসেনা। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আশার আলো দেখাচ্ছে, তারা ফিরে পারছে মাদকমুক্ত জীবন।

এই ইয়াবার কবল থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে প্রয়োজন কোঠার প্রতিরোধ বেবস্থা। পার্শ্ববর্তী যে সব দেশ ইয়াবা ঢুকছে এবং দেশের ভেতর ইয়াবার উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ইয়াবার কুফল সম্পর্কে সবাইকে বিশেষকরে তরুণ-তরুণীদের সচেতন করতে হবে। ইয়াবা এর মত সকল মরন নেশা থেকে নিজে বাচুন এবং অন্যকে বাঁচান।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here