আপনি কি সত্যি একজন পুরুষ

0
97

একজন পুরুষ মানুষ, সকল কষ্ট হাঁসিমুখে মেনে নেয় শুধুমাত্র পরিবারের সুখের জন্যে। হুম্ম এটা সত্যি একজন পুরুষ একটা পরিবারকে সুখী করার জন্য নিজের জীবনের সব টুকু দিয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু একটা মেয়ে কম কিসে। জীবনের মাঝপথে এসে একজন পুরুষ সঙ্গিনীর সাথে হাজারো সপ্ন নিয়ে বাধে নতুন এক সংসার। পরিবারের সম্মতি নিয়েই তাদের সংসার জীবনের সুচনা হয়। দাম্পত্য জীবনে একটু আসার আলো নিয়ে আসার অপেক্ষায় থাকে তাদের সন্তান। তাদের পরবর্তী প্রজন্ম। এটাই বাস্তবতা।

কিছুদিন আগের ঘটনা। পাশের বাড়ির শিল্পী আপু। ২০১৬ এর ডিসেম্বর মাসে পরিবারের পছন্দেই বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হলেন দুটি নতুন মানুষ। সুরু হল তাদের নতুন সংসার জীবন। ২০১৭ এর মার্চ মাসে শিল্পী আপু অসুস্ত হয়ে ডাক্তার এর কাছে গেলেন। ডাক্তার জানালেন তিনি ৩ মাসের অন্তসত্তা। অনেক খুশি হয়ে নিজের মা কে ফোন করে জানালেন। মা আমাদের পরিবারে নতুন সদস্যের আগমন হতে চলেছে। বিষয়টা সবাই জানলেন। সবাই সেই আশায় আর কিছু দিনের মদ্ধে শিল্পীর কোল জুরে আসবে একটা সুন্দর ফুটফুটে সন্তান। কিন্তু শিল্পীর পরিবারের মানুষের কাছে বিষয়টা একদম আলাদা। তারা কোনো ভাবেই এই সময় চাচ্ছেন না যে শিল্পী এই বাচ্চা কে জন্ম দিবে। শিল্পীর স্বামী রাসেল প্রতিনিয়তই শিল্পিকে জোর করতে থাকল। অপারেশন করে এই বাচ্চা নস্ট করার জন্য। বলতে থাকল। আমি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত নই এই বাচ্চার বাবা হবার জন্য। তাছাড়া আমার পরিবারের কেউ চায় না এখন এত অল্প সময়ে আমাদের পরিবারে আমন নতুন একজনের আগমন। মা এর মতের বিরুদ্ধে আমি চলতে পারব না। তাই আমি চাচ্ছি। এই বাচ্চাটা যেন পৃথিবীতে না আসে।

কিন্তু শিল্পীও কম কিসে। ছোটবেলা থেকেই বাবার অনেক আদরে মানুষ হয়েছে শিল্পী। একজন সন্তান কে যে কি পরিমান ভালবাসে তার বাবা শিল্পী জানে। কিন্তু রাসেল এবং তার পরিবারের এমন অজুক্তিক প্রস্তাবে শিল্পী কোনোভাবেই রাজি হয়নি। সহ্য করতে হয়েছে অনেক শারীরিক মানসিক নির্যাতন। অবশেষে সন্তানকে জন্ম দিতে হলে সেই বাড়ি ছাড়তে হবে এমন প্রস্তাবে রাজি হয়। ৩ মাসের অমানবিক কষ্ট সহ্য করে ৬ মাসের অন্তসত্তা শিল্পী রয়ানা হয় বাবার বাড়ির উদ্দেশে। বাবার বাসায় এসেও যেন শান্তি নেই। প্রতিবেশীদের যত নোংরা মন্তব্য। সব মুখ বুজে সহ্য করে গেছে মেয়েটা। অবশেষে সেপ্টেম্বর মাসে সুন্দর একটা ছেলে সন্তান এর জন্ম দেন শিল্পী। আর এর মাঝে বয়ে গেছে একটা মেয়ের জীবনের সবচেয়ে বর ঝর। রাসেল মিয়া রীতিমত তালাক নামা এর কাগজ পাঠিয়ে দিয়েছে শিল্পীর বাসায়। মাত্র ২১ বছরের এই মেয়াটার জীবনে এক বছরের মধ্যে বয়ে গেল দুই দুইটি কালবৈশাখী ঝড়। একটা সুন্দর ফুটফুটে সন্তান এর মা এখন শিল্পী। কিন্তু একটা সুখের সংসার তার হারিয়েছে। কি ছিল তার অপরাধ। সন্তান জন্ম দেবার প্রক্রিয়ায় কি সে একাই অংশ নিয়েছিলো। এখনে কি রাসেল এর ইচ্ছা ছিল না। নাকি শুধুমাত্র যৌনতার দায় সারা হয়েছিল সেই সময়। আজকে মা এর ওজুহাতে আরেক মা কে তার সন্তান হত্যার পরামর্শ দিতে লজ্জা করে নাই। নাতি হয়েছে শূনে সেই মা আবার নাতির জন্য কাপর, দুধের প্যাকেট, কিছু খেলনা কিনে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশর বর্তমান আইন অনুযায়ী একজন মা এর কাছে থেকে ছেলে সন্তান কে ৮ বছর এবং মেয়ে সন্তানকে ১৮ বছর পরে তার বাবা  নিতে পারে। রাসেল মিয়াও হয়তোবা এই আশায় আছেন। রেডিমেট বাচ্চার বাবা হবেন। বাবা কথাটা অনেক দামি। একজন বাবা তার পরিবারের জন্য অনেক কষ্ট করেন। তাদের সুখী করার জন্য বাবারা সব সময় ভাল টুকু দেবার চেষ্টা করেন পরিবারকে। শুধুমাত্র যৌনতার দায় সারা না হয় একজন বাবার কর্তব্য। শিল্পী এখন এলাকায় একটি স্কুলের চাকরি করে নিজের এবং নিজের সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেস্ত থাকতে চায়। বিস্তারিত ভিডিও দেখুন >>

বর্তমান সমাজে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় এমন ঘটনা অনেক বিরল। তাই এমন হয়াটা স্বাভাবিক মনে হলেই। এখন নিজেদের পছন্দ করা ছেলেকে বয়ে করে এমন পরিস্থিতির সিকার হয়েছেন অনেকে। আসুন আমরা সচেতন হই বিভিন্ন ওজুহাতে অন্তসত্তা সন্তানকে হত্যার মত জঘন্য কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখি।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here