খেজুরে রয়েছে বিভিন্ন রোগের ওষুধিগুন

0
17

অনেকেই বিশ্বাস করেন মিষ্টি খাবার মানেই তা শরীরের জন্য ভালো নয়। এই ধরণা কিন্তু সঠিক না। কারণ খেজুর এক ধরণের মিষ্টি ফল, তারপরেও এর মধ্য কোনও ক্ষতিকর উপাদান নেই। বরং এটি খেলে সার্বিকভাবে শরীর অনেক চাঙ্গা এবং সুস্থ থাকে। খেজুরের মধ্য বিপুল পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ক্য়ালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম আছে এবং খুব বেশী পরিমানে ফাইবার থাকার কারণে শীতকালে এই ফলটি খাওয়া খুব উপকারী।

বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতার আয়জনে দেখা যায় খেজুর। রোজা রাখার কারণে শরীরের বিপুল পিরমাণ শক্তির দরকার, সেই সময় খেজুর প্রয়োজনীয় সক্তি উৎপাদন করতে সহযোগিতা করে। যারা নিজের শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চাচ্ছেন তাদের জন্যও এই ফলটি অনেক উপকারী। খেজুর মানবদেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে দারুন ভাবে কাজ করে। খেজুরের আরো কিছু  বিশেষ গুনাগুন রয়েছে।

  • শীতকালে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে খেজুর। বিপুল পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং ম্য়াগেনশিয়াম থাকার কারণে এটি শরীর গরম রাখতে খুব ভালোভাবে কাজ করে। আর বিশেষ করে শীতকালে এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
  • খুব হাঁচি-কাশি হচ্ছে। ২থেকে ৩টা খেজুর, কিছুটা মরিচ আর ১-২ টো এলাচ নিয়ে গরম পানিতে সিদ্ধ করে নিন। কিন্তু আখনি খাবেন না। ঘুমাতে জাওয়ার আগে  এই পানি খান। দেখবেন ঠান্ডা কমে যাবে।
  • হাঁপানি বা এজমা রোগে সারাতে অনেক সহায়ক। শীতে যেই রোগ খুব মাথাচারা দিয়ে ওঠে তার মধ্য়ে অন্য়তম হল হাঁপানি বা এজমা। প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে একটু নিয়ম করে ১ থেকে ২ টো খেজুর খাবেন। দেখবেন আপনার হাঁপানি রোগ প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে।
  • শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি খেজুরে ভূমিকা অপরিসীম। খেজুরে অনেক পরিমাণে প্রাকৃতিক মিষ্টি থাকে, তাই এই ফলটি খেলে খুব অল্প সময়ে শরীরের শক্তি বেড়ে যায়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের জন্য অনেক উপকারী এই খেজুর। কেয়েকটা খেজুর নিয়ে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। পরের দিন সকালে খেজুরগুলো ফাটিয়ে পানি মিশিয়ে সেই পানি পান করুন। দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্য়া খুব তাড়াতাড়ি কমতে শুরু করবে। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য  রোগ সারাতে দারুন কাজে আসে খেজুর।
  • হার্টকে ভালো রাখে খেজুর। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই এই ফলটি খেলে হার্ট যেমন ভালো থাকবে, খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং আমাদের শরীরের হার্টকে সুস্থ রাখতে ফাইবার এর চাহিদা অনেক। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারনে নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অনেক কমে যায়।
  • এই শীতে যারা আর্থ্রারাইটিসের সমস্য়ায় খুব ভোগেন তারা আজ থেকেই খেজুর খাওয়া শুরু করে দেন। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ থাকার কারণে আর্থ্রারাইটিসের ব্য়থা কমাতে এটা দারুন ভাবে কাজ করে।
  • ম্য়াগনেশিয়াম আর পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য় করে। খেজুরে প্রচুর পরিমানে ম্য়াগনেশিয়াম আর পটাশিয়াম থাকার কারনে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এই দুটি খনিজ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে থাকায় এই ফলটি খেলে রক্তচাপ একেবারে নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্য়া আছে,তারা আজকে থেকেই ৩ থেকে ৫ টা করে খেজুর খাবার চেষ্টা করুন।

একটি সুস্থ দেহে একটু সুস্থ মনের বসবাস। কাজেই নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে হবে, তবেই আপনার মন সুস্থ থাকবে। যতটুক সম্ভব প্রাকৃতিক খাবার থেকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করা। প্রতি নিয়তই চেষ্টা করুন প্রাকৃতিক ফল মুল খাবার।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here