চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অস্ত্র মহড়া

0
41

রাশিয়ায় শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বিশাল এক সামরিক মহড়া যা সোভিয়েত আমলের স্নায়ুযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অস্ত্র প্রদর্শনী। গত মঙ্গলবার শুরু হয়েছে রাশিয়ার সর্ববৃহৎ সামরিক অস্ত্র মহড়া। এতে অংশ নিচ্ছে প্রায় লক্ষাধিক রুশ সেনা সদস্য। এবং প্রায় তিন লাখ চীনের সৈন্য।  ভোস্তক-২০১৮ (প্রাচ্য-২০১৮) এই যুদ্ধ মহড়া চলবে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে। সাইবেরিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু হতে যাওয়া মহড়াটিতে চীন ও মঙ্গোলিয়ার সেনাদেরও অংশগ্রহণ রয়েছে।

এএফপির খবরে তথ্য অনুযায়ী , রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছেন যে, এবারের সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ সেনাসদস্য, ৩৬ হাজার সামরিক যান, ১ হাজার যুদ্ধবিমান এবং ৮০টি যুদ্ধজাহাজ। এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ সামরিক মহড়া এটা। উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের সামরিক জোট (ন্যাটো) এ মহড়ার প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি বৃহৎ পরিসরের দ্বন্দ্বেরও একটি মহড়া মাত্র। (ন্যাটো) এই মহড়াকে এক বড় ধরনের সংঘর্ষের মহড়া হিসেবেও বর্ণনা করেছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর বিষয়ে এবং ইউক্রেন ও সিরিয়ার চলমান দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ ঘিরে পশ্চিমাদের সঙ্গে মস্কোর উত্তেজনা বেড়ে চলার প্রেক্ষাপটে এই সামরিক মহড়া শুরু হয়েছে। এর আগে ১৯৮১ সালে ‘জাপাড-৮১’ (পাশ্চাত্য-৮১) নামের এক সামরিক মহড়ায় রাশিয়ার প্রায় দেড় লাখ সেনাসদস্য অংশ নিয়েছিলেন। সাবেক (সোভিয়েত ) এর শাসনামলে এটাই ছিল বৃহত্তম যুদ্ধ মহড়া। এবারের এই মহড়ায় রুশ সেনাবাহিননীরা তাদের সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম যেমন ইসকান্দার ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করবে।
ক্ষেপণাস্ত্রটি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র বহনে সক্ষম। এছাড়া এই মহড়ায় অংশ নেবে টি-৮০ ও টি-৯০ মডেলের সর্বাধুনিক ট্যাংক এবং অত্যাধুনিক সু-৩৪ ও সু-৩৫ রুশ যুদ্ধবিমান।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়েছে, নানান ধরণের নিরাপত্তা এবং হুমকি মোকাবেলার জন্য তারা রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। কিন্তু এই সামরিক হুমকি কাদের দিক থেকে, সেটা পরিস্কার করে জানানো হয়নি। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী (সের্গেই শুইগো) জানিয়েছেন এশিয়ায় এবং রাশিয়ার জন্য বড় হুমকি হচ্ছে ইসলামি জঙ্গিবাদ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খর্ব করতেই চীন এবং রাশিয়া নিজেদের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।

মহড়ায় সমুদ্রে কালিবর ক্ষেপণাস্ত্র-সংবলিত একাধিক ফ্রিগেট মোতায়েন করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র সিরিয়া যুদ্ধে ব্যবহার করেছিনেল রাশিয়া। রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের শহর (ভ্লাদিভোস্তকে) এক অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণের পর রুশ প্রেসিডেন্ট (ভ্লাদিমির পুতিন)  ওই মহড়ায় যোগ দিবেন।
অর্থনৈতিক ফোরামে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে অন্যতম চীনের প্রেসিডেন্ট (সি চিন পিং)

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here