লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে অভ্রকে মিনমিনিয়ে বললো

0
21

অবনী লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে মাথা নিচু করে অভ্রকে মিনমিনিয়ে বললো, অভ্র আমি কনসিভ করেছি। অভ্র ভ্রু কুচকিয়ে বললো,এত তাড়াতাড়ি ? অভ্রর কথাটা শুনে অবনী অবাক হয়ে তাকালো। এভাবে বলছ কেন ?তুমি কি খুশি হওনি? হোতাম, যদি সংবাদটা আরো কয়েক বছর পর পেতাম। মানে কি অভ্র? আমাদের প্রথম সন্তান আসতে চলেছে, আর তুমি কিনা অখুশি? রাগ করছ কেন তুমি? দেখ আমিও চাই বাবা হতে।

তবে আরো কয়েক বছর পর। এখন কি সমস্যা ? আর আমার একার চেষ্টায়তো এটা হয়নি, তোমারও অবদান ছিল। তাহলে এখন কেন এমন করছ ? আমি বুঝতে পেরেছি অবনী। কিন্তু তুমি ভেবে দেখ, আমার চাকরিটা ছোট, আহামরি কোনো সেলারি পাইনা। এই অবস্থায় কি করে আমাদের সন্তানকে সুস্থভাবে দুনিয়ায় আনি ? কি করে তার খরচ বহন করি ? তুমি কি মানুষ ? যে বাচ্চাটা এখনো দুনিয়ার আলো দেখেনি তাকে নিয়ে তোমার এখনই এত সমস্যা ? রাগ করোনা প্লিজ। বুঝতে চেষ্টা করো একটু। কিন্তু এখন আমি কি করবো ? এ্যাবরশন করে ফেল। কি ?  অবনীর মাথাটা ঘুরে উঠলো কথাটা শুনে। একজন সদ্য বাবা হতে যাওয়া মানুষ কখনো এমন ভাবে কথা বলতে পারে, এতটা কঠিন হতে পারে অভ্রকে না দেখলে অবনী জানতেই পারতো না।

অবনী ভেবেছিল তার কনসিভ করার কথাটা শুনে অভ্র খুশিতে লাফিয়ে উঠবে। আহ্লাদে আটখানা হয়ে অবনীকে কোলে নিয়ে নাচবে। তাকে সাবধান করে বলবে, আজ থেকে নিজের যত্ন নিতে যেন কোনো অনিয়ম না হয়, ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করবে। কিন্তু অভ্রর কাছ থেকে এর ঠিক উল্টো আচরণটা ফেল। চোখের পানি মুছে উল্টো দিকে ফিরে শুয়ে পড়লো সে। সারা রাত একটিবারের জন্যেও অভ্রর দিকে ফিরে তাকায়নি। অভ্র নিজে থেকেই অবনীর গায়ে হাত রাখলো। অরনী ঝাটকি মেরে অভ্রর হাতটা সরিয়ে দিলো। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় অভ্র বললো, প্লিজ লক্ষ্মীটি, আমার দিকটা একবার ভেবে দেখ।আমাকে আরো একটু দাঁড়াতে দাও। তারপর আমরা বাচ্চাকাচ্চার কথা ভাববো। অভিমানে অবনীর গলা ধরে আসছে। দৌড়ে অভ্রর সামনে থেকে চলে গেল। অফিস রুমে বসে একটা ফাইল দেখছিল অভ্র। এমন সময় তার কলিক রফিক সাহেব এসে বললো, কি করছেন অভ্র সাহেব? অভ্র মুচকি হেসে বললো, এইতো ফাইল দেখছি। কি খবর আপনার? যেমনটা দেখছেন। আপনার কি অবস্থা। ভাবি কেমন আছে ?  অবনীর কথা জানতে চাওয়াতে কিছু মুহূর্তের জন্য অবনীর সকাল বেলার অভিমানি চেহারাটা মনে পড়লো অভ্রর। হুম ভালো আছে আপনার ভাবি। লাঞ্চ করবেন না রফিক ভাই? না ভাই, আজ ছুটি নিয়েছি, তাড়াতাড়ি যেতে হবে।

হঠাৎ ছুটি? আপনার ভাবিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো। কি হয়েছে ভাবির, শরীর খারাপ? রফিক সাহেব হাসিমুখে জবাব দিলেন, এই সময় যা হয় আর কি। এই সময় বলতে? বুঝলাম না রফিক ভাই। আরে মিয়া তুমি কি অবুঝ নাকি। আমি বাবা হতে যাচ্ছি।কয়েকদিন পরেই ইনশাহ আল্লাহ আমার প্রথম সন্তান দুনিয়ার আলো দেখবে। কংগ্রাচুলেশন ভাই। দোয়া করবা আমার সন্তানের জন্য। যেন সুস্থ ভাবে দুনিয়ায় আসতে পারে। আমাদের অনেক সাধনার ফসল ভাই। বিয়ের আট বছর পর সন্তানের বাবা হচ্ছি। তোমার ভাবির এই নিয়ে অনেক কষ্ট ছিল। রাতে ঘুমাতো না ও। বালিশে মুখ চেপে চুপিচুপি কাঁদতো।  তখন খুব কষ্ট হতো আমার। এখন সে আমি দু’জনই অনেক খুশি। প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার সেই কি সুখ, আহ, তুমি তো মিয়া এখনো বাবা হওনাই। নতুন বিয়ে করেছ। হলেই বুঝতে পারবা বাবা হওয়ার মাঝে কত আনন্দ। আমি যাই, দেরি হয়ে গেলে তোমার ভাবি আবার অভিমান করবে। এই সময় যদি ওর একটু যত্ন না করি তাহলে কিভাবে হয় ? রফিক সাহেব চলে যাচ্ছেন। অভ্র নির্বাক তাকিয়ে আছে তার দিকে। রফিক সাহেবের কথাগুলো শুনেই অভ্র বুঝতে পারলো বাবা হচ্ছে বলে তার অনেক আনন্দ, মনে অনেক শান্তি। রফিক সাহেবের বলা একটা কথাই অভ্রর কানে বাঁজতে লাগলো, বাবা হওয়ার সেই কি সুখ, আহ, অভ্র মনে মনে অনুতপ্ত হলো। অবনীকে এভাবে কষ্ট দেয়া ঠিক হয়নি। আমিই ভুল। নিশ্চয় পাগলিটা কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। রাগ করে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমি এখনই নিজের ভুলের জন্য অবনীর কাছে ক্ষমা চাইবো। রফিক ভাই আর আমি,দু’জনই তো একই পোস্টে চাকরি করি। এই কয়টা বেতন পেয়ে যদি রফিক ভাই তার সন্তানের আগমনের খবর পেয়ে এত খুশি হতে পারে তাহলে আমি পারবোনা কেন? ভাগ্যিস রফিক ভাইটা আজ আমার টেবিলে এসেছিল বলে। না হয় ভুলটা থেকেই যেত আমার।

ছুটি নিয়ে বাসায় চলে গেল অভ্র। এই সময় অভ্রকে বাসায় আসতে দেখে অবনী কিছুটা বিস্মিত হয়ে বললো, আজ এত তাড়াতাড়ি আসলে যে তুমি ? না এসে কি করবো? আমার বাবুর আম্মুটা যে না খেয়ে থাকবে। আর বাবুর আম্মুটা ঠিকমত না খেলে তো আমার বাবুটাও কষ্ট পাবে। অভ্রর কথা শুনে অবনী অবাক হয়ে গেল। গত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত যে অভ্রকে দেখলো, তার সঙ্গে এখনকার অভ্রর বিস্তর ফারাক। অভ্র নত হয়ে বললো, আমাকে ক্ষমা করে দাও লক্ষ্মীটি। আমার ভুল হয়ে গেছে। তোমাকে এভাবে কষ্ট দেয়া আমার ঠিক হয়নি। আমি বাবা হবো,এটা আমার জন্য সত্যিই আনন্দের,যা আমি এখন ফিল করছি। অবনীর চোখে পানি চলে এলো। অভিমানি গলায় বললো, অনেক কষ্ট হয়েছিল আমার। কি করে এমন নিষ্ঠুর ভাবে কথাগুলো বলেছিলে তুমি? তার জন্য ক্ষমা চাইলাম আমি। এখন থেকে নিজের যত্ন নিবে। ঠিকমত খাবার খাবে। কোনো অনিয়ম যেন না হয়। সারাক্ষণ আমি তোমার পাশে আছি ভাববে।নিজেকে এক মুহূর্তের জন্য একা ভাববেনা। মনের মাঝে কোনো ভয় রাখবেনা। আমিতো আছিই।

আমার বাবুর আম্মুর অনেক যত্ন নেব আমি। অবনী ঝাপটে ধরলো অভ্রকে। কাঁদতে কাঁদতে বললো, এই টুকুইতো আমি চেয়েছিলাম। আর কিছুই চাইনা। তুমি শুধু আমার পাশে থেক। তুমি পাশে থাকলে আমাদের সন্তান সুস্থ হয়েই আমাদের কোলে আসবে। অভ্র নির্ভরতার আশ্বাস দিয়ে অবনীকে বুকে জড়িয়ে নিলো।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here