তরুণ প্রজন্ম সর্বনাশা শিশার জগতে

0
27

শিশার নেশায় দিশেহারা এখন তরুন প্রজন্ম। শিশাবার গুলোতে প্রবেশ করছে কলেজ ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে ব্যাংক কর্মকতা এবং গৃহিনীরা। শিশায় আসক্ত হচ্ছেন বেশিরভাগ মেয়েরা। ১৬ থেকে ৩২ বছর বয়সীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এই শিশা। রাত যতই গভীর হয়, দলে দলে দলে ব্রিটিশ বাংলাদেশী ছেলে-মেয়েদের আগমন বাড়তে থাকে শিশাবার গুলোতে। মাদক বর্তমান বিশ্বের একটি ভয়াবহ মারনাস্ত্রের নাম। একজন শিশা সেবনকারী একদিন কিংবা দুদিনে হয়ত কেউ মরে যাবে না। কিন্তু একজন মানুষকে ধীরে ধীরে খুব কষ্টদায়ক মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দিবে এই মারনাস্ত্র মাদক।

অনেকে মনে করেন শিশা এটি সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর। এমনটি প্রচারনা চালানো হলেও চিকিৎসকরা বলছেন সম্পুর্ন আলাদা কথা। শিশা হচ্ছে এক জাতীয় ধুমপান। অনেকে মনে করে যে শিশা সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর, কারন এতে পানি মিশ্রিত থাকে। সিগারেটে যেসব ক্ষতিকারক উপাদান আছে-যেমন নিকোটিন, টার, আর্সেনিক, লীড এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকেল, শিশাতে এমন কিছু ক্ষতিকর উপাদান আছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হচ্ছে, একটা সিগারেট কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়। কিন্তু শিশা টানে মানুষ লম্বা সময় ধরে। ১ ঘন্টা শিশা টানলে তা ১০০টি সিগারেটের চেয়েও বেশি ক্ষতি হয়। কেউ যদি মনে করে এটা সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। শিশা সিগারেটের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। আবার কেউ মনে করে ট্রাডিশনাল শিশার চেয়ে হারবাল শিশা অনেক ভালো। দীর্ঘ সময় ধরে যারা শিশা সেবন করেন। তাদের ল্যাং ইনফেকশন, ক্রনিক অবষ্টাকটিভ ল্যাং ডিজিস, কোলন ক্যান্সার সহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের ঝুকিঁ থাকে। বুকে জালাপরা, শ্বাসে কষ্ট এগুলো শিশা সেবীদের সাধারণ সমস্যা। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে প্রতিদিন বাড়ছে মহিলা শিশা সেবনকারী সংখ্যা। শিশা সেবী মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্রেষ্ট ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার মারাত্বক ঝুকি থাকে।

সম্প্রতি ব্রিটেনে প্রকাশিত ধুমপান বিষয়ক একাধিক গবেষনা বলা হয়েছে, এলকোহল পান ইসলামে ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কারনে বিশেষ করে ব্রিটেনে মুসলমানদের একটি বিশাল অংশের তরুন জনগোষ্ঠী এখন শিশা সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শিশা সেবন ধর্মীয় ভাবে নিষিদ্ধ নয় এমন যুক্তি তাদের। কিন্তু যে কোন ধরনের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর নেশা দ্রব্য গ্রহন ইসলাম ধর্মে অবশ্যই হারাম।

মাদক গ্রহনের ফলে ব্যক্তির চোখের তারা বড় হয়ে যায় ,শরীরের অতি উচ্চ তাপমাত্রা বা অতি নিম্ন তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়, খাবারে অরুচি দেখা দেয়, ঘুম কমে যায়, শরীরে কাঁপুনি অনুভূত হয়, ব্যক্তির দৃষ্টি এবং চিন্তার বিভ্রম ঘটে, আকার, আয়তন সম্পর্কে ধারনা লোপ পায়। দীর্ঘ মেয়াদে একজন সেবনকারী ব্যক্তির কারডিওভাস্কুলার এর কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা হঠাত করে হৃদপিণ্ড কাজ বন্ধ করে দিতে পারে। চরম পর্যায়ে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। সময় থাকতেই এই মরন ফাদ থেকে নিজের আপনজন কে নিরাপদে নেয়ার দায়িত্ব আপনার আমার। শুধু শিশা কেন, বাকি সকল প্রকার মাদক থেকে আমাদের বর্তমান যুব সমাজকে রক্ষার উদ্দেশে আমাদের কঠোরভাবে বেবস্থা নেয়া উচিৎ।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here