মানসিক রোগের জন্য প্রাথমিক ভাবে করনীয়

0
24

সুস্বাস্থ্যের জন্য চাই সুস্থ দেহ এবং একটি সুস্থ মন। মানসিক রোগীরা আমাদের সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানসিক রোগীকে (পাগল) বলা এক ধরনের সামাজিক অপরাধ। মানসিক রোগীকে অবহেলা ও অবজ্ঞা না করে সেবা ও ভালোবাসা দিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

প্রথমেই জানতে হবে আসলে এই মানসিক সমস্যা কি ?

এক কথায় দীর্ঘদিনের স্বাভাবিক আচার-আচরণ বিপরীতে অস্বাভাবিক জীবনযাপনই হচ্ছে মানসিক রোগ। বাংলাদেশের প্রায় ৫% থেকে ৯% লোক কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত। মানসিক রোগীদের সঠিক চিকিৎসা না হলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ  সমান ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চলুন জেনে নেই মানসিক রোগের কারন গুলো কি কি?

  • পারিবারিক অশান্তি, অবহেলা, অনিশ্চয়তা কারনে মানসিক রোগে হতে পারে।
  • ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা, হতাশা, অতিরিক্ত ভয় এর কারনে হতে পারে মানসিক রোগ।
  • সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা হতে পারে মানসিক রোগের অন্যতম একটি কারন।
  • বংশ গত কারণে অনেকে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়।
  • অতিরক্ত মাদক সেবনের ফলেও একজন সুস্থ মানুষের মানসিক রোগ হতে পারে
  • শারীরিক বিভিন্ন রোগের কারণে সক্রামন এর কারনে মানসিক রোগ হতে পারে।
  • বিভিন্ন ওষুধের দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থেকে মানসিক রোগ হতে পারে।

মানসিক রোগের লক্ষণ গুলো কি কি ?

  • অতিরিক্ত আবেগের অস্বাভাবিকতা। অতি উত্তেজনা।
  • মনের ভেতর সব সময় অশান্তি, অবসাদ কাজ করা।
  • সব সময় মন খারাপ থাকা। একাকি থাকা।
  • স্বাভাবিক বিচার-বিবেচনা লোপ পাওয়া। ভাল মন্দ নির্বাচনে ব্যহত হয়া।
  • রাতে স্বাভাবিকভাবে কম ঘুম হওয়া।
  • সন্দেহ প্রবণতা বেশী দেখা যায়।
  • অহেতুক ভয় পাওয়া। বিনা কারনেই ভয় পাওয়া।
  • বেশীর ভাগ সময় একা থাকা, একা একা কথা বলা, হাসা ইত্যাদি অন্যতম কারন।

মানসিক রোগের জন্য প্রাথমিকভাবে করণীয়ঃ
১. লজ্জা না পেয়ে, নিয়মিতভাবে মানসিক রোগের দ্রুত ডাক্তার দেখান এবং ডাক্তারের দেয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
২. যতটুক সম্ভব নিজের কাজে ব্যস্ত থাকুন।
৩. রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান। কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা ঘুমান উচিৎ।
৪. নিয়মিত ভাবে বিশ্রাম করুন।
৫. প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাবার চেষ্টা করুন।
৬. সব ধরণের খারাপ অভ্যাস এবং নেশা থেকে দূরে থাকুন।
৭. সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করার চেষ্টা করুন।
৮. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন বেশী আবেগ প্রবণ হয়ে কোন কিছু করা যাবে না।
৯. পছন্দের মানুষ, কাছের বন্ধুদের সঙ্গে সময় দেয়ার চেষ্টা করুন।
১০.নিয়মিত নামাজ করুন, ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন করুন।

বর্তমানে মানসিক রোগ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। অনেকে কিছু উপসর্গ নিজের সঙ্গে মিলিয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ্ কি না সেই দ্বন্দ্বে ভুগে থাকেন। আবার অনেকে মানসিক রোগ নিয়ে নানা অসুবিধা ও অসঙ্গতি হওয়া সত্ত্বেও মানসিক রোগকে অস্বীকার করে নিজে ও অন্যকে কষ্টে রাখেন। তাই মানসিক রোগ ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে ভালো করে জানা প্রয়োজন এবং আক্রান্ত রুগীর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করানো উচিৎ।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here