সিলিং ফ্যানটা ঝুলে আছে আমার জন্য

0
11

প্রায় ২ বছর হয়ে গেল বিয়ে করেছি, সেভাবে কেউ জানেনা। বন্ধু বান্ধবী কেউ না, আখন বাসায় জানানো হয়নি। যার সাথে থাকলে সারাজীবন নিজেকে সুখী মানুষ অনুভব করবো, তাকে বিয়ে করব কিনা বন্ধু কিংবা অন্য কারো কাছেই এটা নিয়ে পরামর্শ করিনি। কোন বাধা, বিড়ম্বনা বা দ্বিমতের মধ্যে পড়তে চাইনি। বিয়ের কয়েকমাস পরেও নিজেকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুখী মানুষ মনে করেছি, কিন্তু আমার সেই ভুলটা ভাঙ্গতে খুব বেশিদিন সময় লাগলোনা।

ভার্সিটির নজ্রুল হলে থাকতাম, ও থাকতো  বনলতা মেছে। পড়াশোনার কারনে দুজনারই বাসার বাইরে থাকা লাগতো, একই ভার্সিটিতে পড়ার সুবাদে আমরা কে যে কাকে প্রথম দেখেছিলাম, কার মনে যে প্রথম প্রেমের ছোঁয়া লেগেছিল তা আজো মনে করতে পারছিনা। তারপরও যতটুকু মনে পড়ে প্রথম দেখাটা আমাদের সম্ভবত কলেজ ক্যান্টিনে হয়েছিল। মনি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো,আর আমি কিছুটা দূরে বসে ছিলাম। হঠাৎ কার যেন প্রাণোচ্ছল হাসী কানে আসলো হৃদয়ে এক অন্যরকম শিহরণ জাগালো। চোখ ফেরাতেই সেই বালিকার সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। আহা, মনের ভিতর এতদিন যে মানবীর ছবি ছবি তিল তিল করে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সেই হাসী, সেই চোখ, চুল, বক্ষদেশ, নিতম্ব সবি অপরূপ, অপূর্ব, অপুর হৈমন্তী চাইতেও আমি সুন্দর কাউকে দেখতে পেলাম, এতো অমূল্য, যেন পৃথিবীর সমস্ত স্বর্ণ দিয়েও এমন একজন মানবীর সমান সৌন্দর্য সাজানো যাবে না। আমার এতদিনের ঘুমান্ত মন যে রমনী মুহূর্তেই জেগে উঠল তার মনেও কি আমার প্রতি কোন অনুভূতি সঞ্চয় হয়েছে ?

আর অপেক্ষা করতে পারলাম না, লাজ লজ্জা দূরে সড়িয়ে সোজা গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ইক্সকিউজ মি, যদি কিছু মনে না করেন তো আপনার সাথে একটু কথা বলতে চাই। তার চোখের দিকে তাকাতেই মনের ভিতর আনন্দের ঘূর্ণিঝড়, টর্ণেডো বয়ে যাচ্ছিলো। টুকটাক কিছু কথা দিয়েই আমাদের প্রথম দিনটা শেষ হয়েছিল। অপরূপ সেই রূপসীর নামটা সবাইকে জানিয়ে তাঁকে ছোট করতে চাই না, মৃত্যুর পরও যদি আমার হৃদয় বলে কিছু থাকে সেখানেও সে মর্যাদার শ্রেষ্ঠতম আসনে অধিষ্ঠিত থাকবে। আমরা সমবয়সী ছিলাম। পরিচয়ের পর থেকে প্রতিদিন তার সাথে দেখা করতাম, আমার সমস্ত দিন শুধু তার সাথে ঘুরেই আর তাকে ভেবেই কেটে যেত। একবার ভার্সিটিতে ক্যান্সার আক্রান্ত এক শিক্ষকের চিকিৎসা ফান্ড সংগ্রহের জন্য বড় ধরনের কনসার্ট এর আয়োজন হল। আমরা দুজনেই সেখানে গিয়েছিলাম। ওর অনেক বন্ধুও ছিল সাথে, খুব ইনজয় করতেছিল। বিশাল বড় স্টেডিয়াম, একপাশে স্টেজ, পুরো জমজমাট, সেদিন খুব সুন্দর লাগছিল ওকে দেখতে। দুজনে বসে আছি, একসময় আমার হাতটা চেপে দিয়ে বললো, তুমি বসো আমি আসছি। কই যাও ? ফ্রেণ্ডদের সাথে দেখা করে আসছি, ভি আই পি গ্যালারি থেকে ও ছেলেদের গ্যালারির দিকে গেল, কিছুক্ষণ পর দেখলাম ফ্রেন্ডদের হাত ধরে নাচতে, মঞ্চে প্রচুর বিটে গান বাজছিল। তার সাথে পাল্লা দিয়ে নিজের কলমীলতার মতো দেহটাকেও দোলাচ্ছিল সে। নিজের প্রিয়তম স্ত্রী কিংবা স্বপ্নের নায়িকা যখন অন্য কারো সাথে অন্তরঙ্গ থাকে তখন কার না খারাপ লাগে ? হোক ছেলেগুলো ওর জাস্ট ফ্রেন্ড তারপরও খারাপ লাগছিল। প্রায় ঘন্টাখানেক পর ফিরে এলো, এসেই আমার হাত ধরে ওর ফেন্ডদের সাথে পরিচয় কারাতে নিয়ে গেল। ফ্রান্স ইনি হচ্ছেন তোমাদের ভাইয়া। অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাসিমুখে তাদের সাথে হ্যান্ডসেক করলাম। স্টেজে তখন মিলা “দোলা দে,দোলা দে” গানটা গাচ্ছিলো। ও হঠাৎ করেই আমার হাত ধরে নাচতে শুরু করলো, আমি কিছুতেই তাল মিলাতে পারছিলাম না। শুনেছি ও নাকি রুমে সাউন্ড বক্সে গান ছেড়ে দরজা লাগিয়ে ড্যান্স করে। আমি যে তাল মিলাতে পারছিলাম না সেটা হয়তো লক্ষ করলো, আমার হাতটা ওর কমড়ে দিয়ে বললো, এখানে ধরো, তারপর শরীর হাতের উপর এলিয়ে দিল । আহা, পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ সুন্দরী মেয়েটা আমার হাতে, ভাবতেই অন্যরমক লাগছিল। একসময় শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আমায়, বিশ্বাস করুন সেদিনই প্রথম নারী শরীরের পরিপূর্ণ স্পর্শ পেয়েছিলাম, জীবনের এতগুলো দিন আমার কিভাবে ব্যর্থ হয়েছে, ওকে এভাবে না পেলে বুঝতামই না। কনসার্ট শেষে বন্ধুদের বিদায় জানাতে গেল, কিছুটা দূরে থেকে ছেলেদের সাথে ওকে হাগ করতে দেখলাম। কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না, ওকে নিয়ে বের হওয়ার সময় কিছু বললাম না। রাস্তাতেও চুপ করে ছিলাম, আচমকা ও আমার শার্ট টেনে ধরলো। জড়িয়ে ধরে আমার বুকে জড়সড় মাথা রাখলো, ওর নিঃশ্বাস আমার বুকে এখনো অনুভব করি। সেদিন ওর কানে কানে বলেছিলাম, আমি তোমায় ভালবাসি, সারাটা জিবন তোমার সাথে কাটাতে চাই। ও কাঁদতেছিল ছোট বাচ্চার মতো। সাদিয়াকে মেছে পৌঁছে দিয়ে হলে আসলাম। রাত ১১.৩০ এর দিকে ওর ম্যাসেজ পেলাম, I Love You Forever.My Everything is You. গোটা পৃথিবীর সুখগুলো সেদিন আমার কাছে ছিল। আমরা প্রায়ই  মাঠে বসে থাকতাম সন্ধ্যার পর, বিশাল মাঠ, লোকজনের কোলাহল কম, দিগন্ত বিস্তৃত আকাশের চাঁদ। অনেক ভাল লাগতো, আকাশের চাঁদটার মতো আরেকটা চাঁদ তখন আমার পাশে । একদিন সন্ধ্যার পর দুজনে ঘাসের উপর শুয়ে আছি, ও আমার বুকে মাথা রেখে আকাশের চাঁদ দেখতেছিল। কথায় কথায় আমরা কি যেন সব ইমোশনাল পর্যায়ে চলে গিয়েছিলাম, সেদিনও ও কাঁদতেছিল, চোখের পানি টুপটুপ করে আমার বুকে পড়তেছিল। আমি যখনি যাকে প্রিয় ভেবেছি, সেই আমায় ছেড়ে চলে গেছে। তুমি আমায় কখনো ছেড়ে যেওনা, জীবনের প্রতিটা দিন তোমাকেই চাই, প্রতিটা নিঃশ্বাস তোমার সাথে নিতে চাই। সেদিন ওর মাথায় হাত রেখে কথা দিয়েছিলাম। কারণ ওকেও আমি কখনোই হারাতে চাইতাম না, আমার পরিপূর্ণ পরিপূরক ভাবতাম ওকে। আমার প্রতি এত ভালবাসা দেখে মাঝেমাঝে কান্না পেত আমার, একটা মানুষ এক জীবনে এত ভালবাসে কিভাবে। একবার অসুস্থ হলাম, দীর্ঘদিন অজানা কোন কারনে প্রচন্ড কানে ব্যথা , সেই সাথে মাথাও প্রচন্ড ব্যথা করতো। রা,মে,কে ভর্তি ছিলাম তিনদিন, এই তিনদিন এক মুহূর্তের জন্যও মনি ঘুমায়নি, সারাক্ষণ পাশে ছিল, ওর চোখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়েছিলাম, এত ভালবাসা আমার জন্য, আমি কি এর যোগ্য ? মায়ের পর কোন নারীর মাতৃত্ব সেদিন অনুভব করেছিলাম। আল্লাহ্’র কাছে চেয়েছিলাম অন্তত ওর জন্য হলেও যেন আমায় সুস্থ করে দেন, আমার কিছু হয়ে গেলে ও বাঁচবে না এটা নিশ্চিত ছিলাম। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে সেবার বেঁচে গিয়েছিলাম। সেদিনই ওকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই। তাছাড়া ওর কিছু কিছু আচরণ আমার ভাল লাগতো না, ফ্রেন্ডদের সাথে একটা বেশি মেলামেশা, অনেক বকা দিতাম, ভুল হয়ে গেছে আমায় তুমি তোমার মতো করে গড়ে নাও, আই লাভ ইউ ইত্যাদি কথা বলে আমায় গলিয়ে ফেলতো, ভেবেছিলাম বিয়ের আগে হয়তো সব মেয়েরই এরকম দুএকটা সমস্যা থাকে। বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে।

আমাদের বিয়ে হয় ১৪ ই মার্চ। হল ছেড়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলাম দুজনে মনি মেছ ছেড়ে দিয়েছিল। দুটা টিউশনি করাতাম, বাসা থেকে বেশি বেশি টাকা নেওয়া শুরু করলাম। নানা অজুহাতে টাকা নিতাম, কখনো বলতাম ডিপার্টমেন্ট থেকে ইন্ডিয়া যাবে সবাই, ওখানে ১ মাস ক্লাস করা লাগবে ৬০/৭০ হাজার টাকা লাগবে। বিদেশে লেখাপড়া করলে তাড়াতাড়ি ভাল চাকরি পাওয়া যাবে ইত্যাদি নানারকম অজুহাত দিতাম। ছাত্রবস্থায় সংসার, অনেকটা টেনেটুনে সংসার চলছিল আমাদের। সকালে বউয়ের গরম চা অসাধারণ লাগতো, ওহ একটা কথা ভুলে গেছ। মনি যখন শাড়ি কোমড় পেচা করে আঁচল পেটের একপাশে গুঁজে রান্না করতো। অপূর্ব, অসাধারণ সুন্দর লাগতো। সে সৌন্দর্য আমি শুধু অনুভব করতে পারি লিখে বোঝাতে পারিনা। ওকে কিছুটা সংযত হয়ে চলার কথা বলতে শুরু করলাম, ফ্রেন্ড থাকতেই পারে তাই বলে এত বেশি অন্তরঙ্গ কেন। তোমার সবকিছু জুড়ে শুধু আমি থাকবো, আমার আমার পুরোটা জুড়ে তো শুধু তুমিই আছো। আমার কথা তেমন কানে নিল বলে মনে হলো না। সবকিছুই কেন যেন গড়মিল লাগছিল। কিছুতেই বিয়ের আগের ওকে আর বিয়ের পরের ওকে মিলাতে পারছিলাম না। এভাবে টিউশনি করে আর বাবা মাকে মিথ্যে বলে বেশি টাকা নিয়ে আর কদিন ভাল চলা যায়, চাকরির জন্য ব্যাপক পড়াশোনা শুরু করলাম। সাথে ওকে যথেষ্ট ভালবাসা দেবার কোন কমতি রাখতাম না। মাঝেমাঝে মানা থাকা সত্ত্বেও ওর কোন কোন ফ্রেন্ডকে বাসায় নিয়ে আসতো। একদিন যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে বিজ্ঞান পড়ছিলাম, অ্যানোড, ক্যাথোড, হাইপারগ্লাসইসেমিয়া, সোমাটোস্ট্যাটিন, টেস্টোস্টেরন ইত্যাদি কি সব কঠিন কঠিন শব্দ মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছিলো। ও ডিপার্টমেন্ট এর কি যেন কাজের জন্য ক্যাম্পাসে চলে গিয়েছিল। ভাবলাম ক্যাম্পাস থেকে ঘুরে আসি একটু। বের হলাম বাসা থেকে, তখন প্রায় বিকেল। চওড়া রাস্তা দিয়ে হাটছি একা, ওকে কল দিতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু ডিপার্টমেন্টের কি কাজে ব্যস্ত আছে ভেবে কল দিলাম না। দুপাশে সুবিশাল গাছগুলো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, শান বাঁধানো ঘাটের পাশে কয়েক জোড়া কাপল বসে প্রেম করছে। মনে মনে হাসি পেল, আমরাও একসময় এভাবে প্রেম করেছি। হাটতে হাটতে শহীদ মিনারের দিকে চলে আসলাম, হঠাৎ আমার চোখ আটকে গেল ও কোন যেন একটা ছেলের হাত ধরে সিনেট বিল্ডিং এর পাশে বসে আছে মুখোমুখি। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। এ কি আমার সেই মনি যার নিঃশ্বাস এখনো আমার বুকে লেগে আছে। অনেক কষ্টে বাসায় ফিরে আসলাম, ১৫ মিনিটের রাস্তাটা সেদিন ১৫ বছরের রাস্তা মনে হয়েছিল। যেন উত্তর আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে হাটছি আমি। বাসা ফিরলো সন্ধ্যার পর, আমার দিকে একটু তাকালো। বললাম, কোথায় ছিলে ? আর বলো না, স্যারের প্রোজেক্ট এর কাজ ছিল। এই মাত্র শেষ হলো। হতবাগ হলাম, মেয়েদের মিথ্যা বলার কি অসাধারণ ক্ষমতা দিয়েছেন। ছেলেটা কে ছিল ?? মামানে কোন ছেলে, কোথায় ? সিনেটের নিচে ওই ছেলেটা কে ছিল ? আমার চোখ রাগে লাল হয়ে গিয়েছিল। মাথা নিচু করে বললো, ও আমার ফ্রেন্ড। তোমায় বলা হয়নি, ওর সাথে আমার অনেক দিন আগে থেকে ভাল সম্পর্ক। অনেক মজার একটা ছেলে। ওরকম একটা টোকাইয়ের মতো ছেলে, গাঞ্জাখোর চেহারা ও তোমার ফ্রেন্ড হয় কিভাবে ? কোন ইয়ারে পড়ে ? ও গলার স্বর আরো নিচু করে বললো, ওর পড়াশোনা শেষ আমার চেয়ে তিন বছর বড়। একটা সিনিয়র টোকাই ছেলের সাথে কিসের ফ্রেন্ডশিপ তোমার ? পাগল পেয়েছ আমাকে ? কোন ফ্রেন্ডের সাথে আর মিশতে পারবে না তুমি। আমি তোমার স্বামী, আমার কথা তোমায় শুনতে হবে। ওর উত্তর শুনে শুধু হতবাগ না আমার সমস্ত কথা হারিয়ে গেল। দেখ, তোমার কোন নিষেধ আমি শুনবো না।  আমি আমার মতো, I don’t like any restriction.

তোমায় বিয়ে করাটাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে, সেদিন আর কিছুই বললাম না, মনের মাঝে শুধু হাজার প্রশ্ন আছড়ে পড়ছিল। এই কি সেই ? যে সারা জীবন আমার সাথে কাটেতে চেয়েছিল। এই কি সেই যে আমায় সারাজীবন তার সাথে থাকার জন্য প্রতিজ্ঞা করিয়েছিল। সেদিন উপলদ্ধি করেছিলাম, একটা মেয়ে যতই সুন্দরী হোক তার চরিত্র, স্বাভাব, ব্যবহার ইত্যাদি ভাল না হলে শুধু সাদা চামড়া দেখে তাকে সুন্দরী বলা কোন ভাবেই ঠিক না। এর পরেও তাকে ওই টোকাইয়ের মতো ছেলেটার সাথে ঘুরতে দেখতাম, অনেক ঝগড়া লাগতো এ নিয়ে। পৃথিবীটা শূণ্য লাগতো। এক পর্যায়ে ও বাসা ছেড়ে একা অন্য বাসা নিল। তিন দিনের মতো রাগে, ঘৃণায় ওর সাথে যোগাযোগ করিনি। কিন্তু আর থাকতে পারলাম না। যাকে ভালবাসি তার কাছে আবার আমার পার্সোনালিটি, ভাব, রাগ কি। ওর নতুন বাসায় যাওয়ার জন্য প্লান করলাম। গায়ে ওর পছন্দের পারফিউম লাগালাম, সাহেব বাজার থেকে কুড়িটা গোলাপ কিনলাম। তারপর অটো নিয়ে ওর বাসায় চলে গেলাম, গেট ম্যান আমাদের দুজনকে অনেকদিন দেখেছে ঘুরতে, পরিচিতও ছিল। তাই কিছু না বলেই ঢুকতে দিল। ওর রুমের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ভাবলাম দেখা দরজা খুললেই ওকে জড়িয়ে ধরে আই লাভ ইউ আর সরি বলে কোলে তুলে নেব। দরজার নক করলাম, প্রায় পাঁচ মিনিট পর দরজা খুললো।

জীবনে যেটা দেখার জন্য স্বপ্নেও প্রস্তুত ছিলাম না, সেটাই দেখলাম। হাত থেকে ফুল গুলো পড়ে গেল। পায়ের নিচের মাটিগুলো কাঁপছিল, আচ্ছা সেদিন কি রিখটার স্কেলে সর্বোচ্চ ভূমিকম্প হয়েছিল ? বাড়ি, ঘর সমস্ত ভেঙ্গেচুরে মাটিতে তলিয়ে গিয়েছিল ? নিজের স্ত্রীকে অন্য কারো সাথে শুতে দেখার মতো কষ্ট, লজ্জা পৃথিবীতে আর অন্য কোন কিছুতে সৃষ্টি হয়নি। চারপাশটা ভেঙ্গেচুরে যাচ্ছিলো, মনের ভিতর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় ঝড়্গুলো তোলপাড় করে দিচ্ছিলো। দরজা থেকে ছুটে চলে এসেছিলাম। দুপা টলছিল, হাটতে পারছিলাম না। রাস্তার পাশের দোকান থেকে একটা দড়ি কিনেছিলাম। একবার সেই জুবেরী মাঠে গেলাম, ভিতরটা হুহু করে উঠলো। মরার আগে পৃথিবীর প্রতি মানুষের হয়তো বড্ডো অভিমান জন্মে। রুমে এসে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম, সিলিং ফ্যানটা ঝুলে আছে আমার জন্য। আর দেরি করলাম না, চারপাশটা অন্ধকার হয়ে আসছে। আচ্ছা, মরার আগে নাকি আজরাইল অনেক ভয় দেখায় ? মিথ্যা কথা। হাতের রগ গুলো শক্ত হয়ে আসছে, প্রচন্ড অন্ধকারেও মায়ের মুখটা বারবার ভেসে উঠছে। এভাবেই সেই করে দিল মিথ্যা ভালোবাসা আমার জীবনটাকে।

এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে পবিত্র ভালোবাসা। হারিয়ে যাচ্ছে মেয়ে জাতী / মা জাতী এর প্রতি সন্মান। আসুন ভালোবাসার পবিত্রতা রক্ষা করি। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া থেকে বিরত থাকি। প্রতারণা করা থেকে নিজেকে সংযত করি।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here