৬ মাসে ঘরে বসে লক্ষ টাকার ব্যবসা

0
48

বর্তমানে বাংলাদেশে দ্রুত খামার ব্যবসায় সফলতা পাওয়া যাবে এমন ব্যবসা হচ্ছে টার্কী খামার।

টার্কি মূলত মেসোআমেরিকান (মেক্সিকো এবং কেন্দ্রীয় অমেরিকা) অঞ্চলের বন্য প্রজাতির একধরনের পাখি।প্রাতিস্থান আমেরিকাতে ইউরোপীয় কলোনী স্থাপনের পূর্বে এই পাখিকে মেসোআমেরিকায় সর্বপ্রথম গৃহপালিত পাখি হিসেবে পালন শুরু করা হয়। এই বন্য পাখির বহু প্রজাতি মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চলে এখনো দেখা যায়। এটি এভিস শ্রেণীর অর্ন্তভুক্ত ফ্যাসিএনিডি পরিবারভূক্ত মিলিএগ্রিস গণের “গ্যালাপাভো ” প্রজাতির গৃহপালিত পাখি। টার্কির বাচ্চা দেখতে মুরগীর বাচ্চার মত হলেও পরিপূর্ণ বয়সে বদলে যায় আকৃতি ও চেহারা। টার্কি বাণিজ্যিক ভাবে মাংস উৎপাদনের জন্য খুবই উপযুক্ত একটি গৃহপালিত পাখি। এরা দেখতে খুব সুন্দর হয়। তবে এরা বাণিজ্যিকভাবে ডিম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয়। তারা দ্রুত বড় হয়ে যায় এবং ব্রয়লার মুরগির মত খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে উঠে।

পশ্চিমা দেশগুলোতে টার্কি অধিক জনপ্রিয়। সবচেয়ে বেশি টাার্কি পালন করা হয় মার্কিন যুক্তরাস্ট্র, কানাডা , জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশে। বর্তমানে বাংলাদেশে এই প্রজাতির টার্কি পাখি গৃহপালিত হিসাবে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

বাংলাদেশের মানুষ এই প্রজাতির পাখি পালন করছেন কেন ? 

  • বাণিজ্যিকভাবে মাংস, ডিম ও পোষা প্রাণী হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
  • টার্কি পালনে বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই।
  • বাণিজ্যিকভাবে মাংস উৎপাদনকারী একটি প্রজাতি টার্কিপাখি তবে ডিমের জন্য নয়।
  • টার্কি ব্রয়লার মুরগি ও শুকরের চেয়ে দ্রুত বাড়ে।
  • টার্কি পাখি পালনে খাদ্য খরচ কম কারণ এরা দানাদার খাদ্যের চেয়ে ঘাস, লতা-পাতা জাতীয় খাদ্য বেশি খায়।
  • টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ অন্য প্রজাতির পোল্ট্রির চেয়ে বেশি এবং চর্বির আধিক্য কিছুটা কম।
  • টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ আয়রন, জিংক, পটাসিয়াম, ফসফরাস থাকে। এই উপাদানগুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী এবং নিয়মিত এ মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়।
  • টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফ্যান অধিক পরিমাণে থাকে বিধায় এদের মাংস শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্বি করে।
  • টার্কির পাখির মাংসে ভিটামিন ই অধিক পরিমাণে থাকে যা এন্টিঅক্সিডেন্ট ও রোগ প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে।
  • অন্যান্য পাখীর তুলনায় এর রোগ বালাই কম এবং কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললে রোগ বালাইয়ের ঝুকিঁ কম।
  • যেহেতু দেখতে খুব সুন্দর তাই এরা বাড়ির সৌর্ন্দয বর্ধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

টার্কির পাখির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে। পাশাপাশি দেশের বৃহক্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুক্তপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যাদের অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু বা খাসীর মাংস খায় না, টার্কি তাদের জন্য হতে পারে বিকল্প। তাছাড়া বিয়ে, বৌ-ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর বা গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার এবং গরু বা খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম।

বাংলাদেশে মুরগি পালনের পাশাপাশি আমিষের উৎস হিসাবে টার্কি পালনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। টার্কি যেহেতু ব্রয়লার মুরগির চেয়ে দ্রুত বাড়ে তাই পরীক্ষামুলক ভাবে প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই টার্কি পালন শুরু করেছেন। পরবর্তী পোষ্টে আমরা  অধিক লাভজনক টার্কি পাখি খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করব। ততক্ষণ পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন bdboyz.com এর সাথেই থাকুন। 

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here