ওয়ানাক্রাই ভাইরাস হতে সাবধান

0
30

পৃথিবীর ১৫০ টি দেশে প্রায় ২লক্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে ওয়ানাক্রাই নামক একটি ভাইরাস দিয়ে আক্রমন চালিয়েছে হ্যাকাররা। কিছুদিন আগে আমার বন্ধুর কম্পিউটারে এই ভাইরাস আক্রমন করে। এই ভাইরাস আক্রমন করলে ব্যবহার কারীর কম্পিউটারের সব ফাইল লক হয়ে যায়। ফাইল গুলোর শেষে .crab নামক এক্সটেনশন থাকে। এবং এটি খোলার জন্য অনেক ইউএস ডলার গুনতে হয়। কি এই ভাইরাস এবং এর থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায় নিয়ে আজকের এই পোস্টটি প্রথমে আমরা জেনে নেই ওয়ানাক্রাই কি?

এটি আসলে একটি ম্যালওয়ার। যা একধরনের ক্ষতিকর সফটওয়ার যা কোন একটি কম্পিউটারের সংরক্ষিত ডাটা সমূহকে এনক্রিপ্ট করে অথবা লক করে দেয়। এর ফলে আক্রান্ত কম্পিউটার ব্যবহারকারী তার কম্পিউটারের কোন ফাইল ব্যবহার করতে পারে না। এই ফাইল খোলার চাবি বা কি পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের কাছে থাকে। হ্যাকাররা সেই লক ফাইল গুলো খোলার জন্য মুক্তিপন হিসেবে ডলার দিতে হয়। আর এই ডলার বিটকয়েনের মাধ্যমে দিতে হয়। যার কারনে কে কাকে টাকা দিচ্ছে তা জানা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য একে বলা হয় র‍্যানসামওয়ার।

এই ভাইরাস ওয়ার্ম নামক এক কম্পিউটার থেকে ছড়িয়েছে বলে জানা যায়। যে ভাইরাস এই সফটওয়ার বহন করে সেই সফটওয়ারটি নিজে নিজেই একটা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলাচল করে আর কোন প্রতিষ্ঠানে এই ভাইরাসটি ঢুকলে তা নিজে নিজে নিজেই অরক্ষিত কম্পিউটার খুজে বের করে সেটাকে সংক্রমিত করে। তবে ধারনা করা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পাওয়া একটি ভাইরাস ফাস হয়ে যাওয়ার ফলে সেটি থেকে হ্যাকারদের মাধ্যমে এই ভাইরাস এর উৎপত্তি ঘটে। তবে এটি কে বানিয়েছে তা এখনো জানা যায় নি।

সাইবার-ক্রিমিনালদের মধ্যে বিভিন্ন রকম র‍্যানসমওয়্যার বেশ জনপ্রিয় কারন এর মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা আদায় সম্ভব।এজন্য হ্যাকারদের মধ্যে উন্নত উন্নত র‍্যানসমওয়্যার তৈরি জন্য প্রতিযোগিতা চলে।আর এই গবেষনার মাধ্যমে উন্নত করতে করতে কেউ একজন বানিয়ে ফেলে এই ম্যালওয়ারটি। পরে ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারের পরিচালক তারেক বরকত উল্লাহ জানান এনএসএ থেকে চুরি করা ওয়ানা ক্রিপ্টো বা ওয়ানা ক্রাই নামের র‌্যানসামওয়্যার দিয়ে যে হামলা করা হয়েছে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল অনলাইন সেবা খাত। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে এই হামলাটি হয়েছে। উইন্ডোজের পরিবর্তে অন্য ওএস হিসেবে লিনাক্স ব্যবহার করার ফলে এ আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছে অনেক সরকারি সেবা খাত।

এসব থেকে বাচার জন্য যা করতে হবে তা হলঃ অপারেটিং সিস্টেম নিয়মিত আপডেট রাখা। অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোস ১০ এর সর্বশেষ ভার্সন স্প্রিং ক্রিয়েটর যা গত ১০ এপ্রিল প্রকাশিত হয় সেটি আমি আপডেট দিয়ে ছিলাম। সেখানে লক্ষ্য করলাম ভার্সনটিতে র‍্যানসামওয়ার প্রটেকশন দেওয়া আছে। এন্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার দিয়ে এগুলো ঠেকানো সম্ভব, কিন্তু কোন সুরক্ষা ব্যবস্থাই শতভাগ নিরাপদ নয়। তাই ইমেইল বা ফেসবুকে কেউ লিঙ্ক শেয়ার করলে শেয়ারকৃত লিঙ্ক সন্দেহজনক হলে তা ক্লিক করা থেকে বিরত থাকা। অচেনা কোন ইমেইল না খোলা।পেনড্রাইভ থেকেও এই ভাইরাস আস্তে পারে তাই ভাল কোন এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা। খুব গুরুত্বপুর্ন হলে লিনাক্স ও এস ব্যবহার করা। কোন ফাইল ডাবল ক্লিকে না খোলা। কারও পেনড্রাইভ পিসিতে প্রবেশ করালে সেটিও ডাবল ক্লিকে না খোলা।

র‌্যানসমওয়্যারে আক্রান্ত হলে যা করনীওঃ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সেই ফাইলগুলো ব্যবহার করা যায় না। তাই আক্রান্ত হলে সেই ফাইল গুলো পাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। উইন্ডোজ ১০ হলে ডাটা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উইন্ডোজ ১০ এর জন্য উইন্ডোজ ডিফেন্ডার দিয়ে স্ক্যান করতে হবে। তবে অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ ব্যবহারের ওপর উইন্ডোজ কম্পিউটারে ডাটা ফেরতের বিষয়টি নির্ভর করে থাকে। তাই উইন্ডোজ নির্মাতা কম্পানি উইন্ডোজ এর নিয়মিত আপডেট দিতে বলে থাকে। এ ছাড়া এন্টিম্যাওয়ারবাইট নামক এন্টিভাইরাস দিয়ে স্ক্যান করেও এই ভাইরাস নির্মূল করা যায়।

এর পরের পোস্টে বলব লিনাক্স নাকি উইন্ডোস। কোন ও এস টি ভাল এবং কেন??

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here