স্মার্টফোনের চার্জ ধরে রাখার ৮টি কার্যকরী উপায়

0
50

পুরাতন মোবাইল গুলোর তুলনায় স্মার্টফোনে কাজ করার সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি বলে ব্যাটারীও চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক কমে গিয়েছে। বর্তমান যুগে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী সবারই প্রায় এক অভিযোগ, ব্যাটারির চার্জ বেশিক্ষণ থাকে না। তবে সাধারণ কিছু টিপস ফলো করলে ব্যাটারির চার্জ বেশি সময় ধরে রাখা যেতে পারে। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক স্মার্ট ফোনে চার্জ ধরে রাখার সেরা ৮ টি উপায়।

১. স্মার্টফোনের ডিসপ্লের ব্রাইটনেস কমানো

স্মার্টফোনের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ হচ্ছে এর স্ক্রিন। বেশীক্ষণ চার্জ ধরে রাখার জন্য পর্দার ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখতে হবে। স্মার্টফোনের ব্রাইটনেস পরিবর্তনের জন্য শর্টকাট কী-আছে। আবার কিছু মোবাইলে ফোনের সেটিংস থেকে এটি পরিবর্তন করা যায়। ডিসপ্লের ব্রাইটনেস যথাযম্ভব কমিয়ে রাখলে দেখা যাবে স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ অনেক বেশি সময় ধরে থাকছে।

২. ফোনটি সবসময় লক করে রাখা

ফোনটি ব্যবহার করার প্রয়োজন না হলে ফোনটি লক করে রাখা উচিত। ফোন লক করা না থাকলে অটোমেটিক ভাবে কিছু অ্যাপ সেবা চলে এবং এতে ব্যাটারির চার্জ খরচ হয়। আর লক করার আরও একটি সুবিধা হলো, ভুলবশত স্ক্রিনের কোথাও আঙুলের চাপ পড়ে কল চলে যাবে না বা কোনো অ্যাপ খুলবে না। আবার লক থাকা অবস্থাতে কল ও এসএমএস আসবে।

৩. স্মার্টফোনের নিজস্ব চার্জার দিয়ে চার্জ দেওয়া

স্মার্টফোনটি সবসময় নিজস্ব চার্জার দিয়ে চার্জ দিতে হবে। তাহলে ফোনটির ব্যাটারির আয়ু বাড়বে। তবে যদি চার্জিংয়ের সময় ফোনের নিজস্ব চার্জার ব্যবহার না করা হয় তাহলে ধীরে ধীরে ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকে। কেননা ফোনের সঙ্গে থাকা চার্জারে নির্দিষ্ট পরিমাণ আপটপুট ভোল্টেজ এবং বিদ্যুত ইনপুট পরিমান মতো থাকে।

৪. কাজ শেষে অ্যাপটি বন্ধ করা

স্মার্টফোনটির ব্যবহার শেষ হলে যে অ্যাপটি রানিং অবস্থায় রয়েছে সেই অ্যাপটি বন্ধ রাখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাপটি মিনিমাইজ করে রাখা হলেও পরে সেখান থেকে চার্জ কমতে থাকে। ইন্টারনেটে কানেকশন থেকে ডাটা আদান-প্রদানও করতে থাকে। অথচ এই সময়ে অ্যাপটি ব্যবহূত হচ্ছে না। তাই এটি বন্ধ রাখতে হবে।

৫. সারা রাত ফোনটি চার্জ না দেওয়া

অনেকেই রাতের বেলা ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। এতে ফোনটি সারা রাত ধরে চার্জ হয়। এর ফলে ওভার চার্জিং হয়। যা ফোনের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়। এছাড়া সারা রাত ফোনে চার্জে দেওয়ার ফলে ব্যাটারি অতিরিক্তি গরম হয়ে বিস্ফোরণও ঘটতে পারে।

৬. ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা

স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য যখনই সম্ভব মোবাইল নেটওয়ার্কভিত্তিক ইন্টারনেট যেমন জিপিআরএস, থ্রিজির তুলনায় তারহীন ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা ভালো। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় অন্যান্য প্রযুক্তির ইন্টারনেট ব্যবহারের চেয়ে কম ব্যাটারি খরচ হয়। অফিস বা বাসায় ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় সেখানে যদি ওয়াই-ফাই থাকে, তবে মোবাইলের ডাটা কানেকশন ব্যবহার না করে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলে চার্জ ব্যয় কম হয়।

৭. ভাইব্রেশন

ভাইব্রেশন ফাংশন অতিরিক্ত ব্যাটারি শক্তি ব্যবহার করে থাকে। তাই অতি প্রয়োজন না হলে ভাইব্রেশন মোড বন্ধ রাখতে পারেন। আর রিংটোন ভলিউম যতটুকু সম্ভব কমিয়ে রাখতে হবে। বেশি ভলিউমও অতিরিক্ত ব্যাটারি শক্তি নিয়ে থাকে।

৮. ব্যাটারি অ্যাপ্লিকেশন

ফোনের জন্য অনেক থার্ডপার্টি ব্যাটারি অপটিমাইজ অ্যাপ রয়েছে। এই অ্যাপগুলো ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে। এতে করে ফোনের চার্জ আরও বেশি ব্যয় হয়। তাই ফোনে আলাদা কোনো ব্যাটারি অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত নয়।

আপনার মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here